বাংলার আমাজন বন(রাতারগুল্য)

Read Time0Seconds

উদ্দেশ্য রাতারগুল, সিলেট। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলাভূমি বন | রাতারগুল ।যা দেখলে আপনারও চোখ জুড়িয়ে যাবে।এ যেন বাংলার। | আমাজান বন।পানির মধ্যে গাছ-পালা।অসংখ্য গাছ-পালা সারি বদ্ধ হয়ে | দাঁড়িয়ে আছে এই জলাভূমি বনে।সূর্যের আলাে এই বনের ভেতর দিনের বেলা প্রবেশ করতে পারে না।এই রাতারগুল জলাভূমি বনকে অনেকে। বাংলার আমাজান বন বলে থাকে।এখানকার স্থানীয়রা সুন্দরবন বলে।

আখ্যায়িত করেছে।এই বনের প্রকৃত নাম রাতারগুল।আমাদের চোখেই মিলে | যে নানান সব পশু-পাখি এই বনের শাখায় শাখায় বাস করে। আমরা যখন

এসেছি পুরাে বর্ষাকাল।এই রাতারগুল জলাভূমি বন দেখার উপযুক্ত সময়। হল সম্পূর্ণ বর্ষাকালে (জুলাই থেকে অক্টোবর)।

আমরা যদি একটু ইতিহাস ঘাটি তাহলে জানতে পারি যে ,৩ হাজার ৩ শত ২৫ দশমিক ৬১ একর জমির মধ্যে ৫০৩ একর জমিতে ১৯৭৩ সালে পশু আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘােষণা করা হয়।সিলেট থেকে ২৬ কিলােমিটার দূরে। বাংলাদেশের এই একমাত্র তলদেশের বনভূমি অবস্থিত।স্থানীয়দের কাছ । থেকে আমরা জানতে পেরেছি এই বনটির নাম স্থানীয় ভাষা রাতা বা পটি গাছ থেকে এসেছে। এই বাংলার আমাজান রাতারগুল সিলেটের গৌনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন।অত্যন্ত চমৎকার যা সকলের নজর কাড়ে। এই আমাজান বনে আছে নানান প্রজাতির গাছ। যেমনঃহিজল, করচ,বরুন,কদম, অর্জুন,জালিবেট ইত্যাদি গাছ।যা আমাদের। মত সকলের নজর কাড়ে। মুর্তা গাছ একটি উল্লেখ যােগ্য গাছ যা থেকে। শীতল পাটি তৈরী করা হয়।এবং তৈরী কৃত শীতল পাটি এই সিলেটের এই বন থেকেই বাংলাদেশের সব খানে পৌঁছে।
এই জলাভূমি বনের গভীরে একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে ।এই ওয়াচ টাওয়ারটিতে উঠে বনের অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। প্রতিদিন এই টাওয়ারে শত শত মানুষ উঠে বেশ উপভােগ করে এই বনকে।শত শত দর্শনার্থী দারুন সময় পার করে।
এই রাতারগুল বনে আছে নানান প্রজাতির পাখি যেমনঃমাছরাঙ্গা,ঘুঘু,সারস,বক,পানকৌড়ি,চিল,গিঙ্গা,বালিহাস ইত্যাদি। আমাদের মত হাজারাে মানুষের নজর কাড়ে।সবাই এই প্রাকৃতিক দৃশ্য ক্যামেরাতে বন্দী করতে চায়।এছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে আছে বানর,উদবিড়াল,কাঠবিড়াল,মেছবাঘ সহ নানান প্রাণী এখানে দেখা যায়।
এই বাংলার আমাজান রাতারগুল এতই সুন্দর যে তা বলে শেষ করা যাবে
।গাছের ঘনত্ব এতই বেশি যে এই বনের ভেতরে দিনের বেলা সূর্যের আলাে প্রবেশ করতে পারে না। আমরা দারুন কিছু অনুভব করলাম যেটা হল এখানে যদি ১/২ দিন কোন বৃষ্টি না হয়ে তাহলে পানি এত বেশি পরিস্কার দেখা যায় যেন আয়নার মত।সবুজ গাছ পালার যেন জীবন্ত ছায়া পড়ে ।অত্যান্ত চমৎকার দেখতে।

এখানে সবচেয়ে মজা হল নৌকাতে চড়ে সম্পূর্ণ বনটা ঘুরে দেখা।এই বন দেখার উপযুক্ত সময় হল বর্ষাকাল।আমরা যেটা পেয়েছি,এখানে নৌকা। ভাড়া।সময় হিসেবে নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়।লাইফ জ্যাকেট ভাড়া পাবেন ৪০ টাকা,ছাতা পাবেন ২০ টাকা ভাড়া।যা সকলের দরকার।
সিলেট রাতারগুল যেতে হলে ঢাকা থেকে বাস ,ট্রেন সব থেকে আপনার জন্যে অনেক ভাল হবে।এইখানে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিবহন পাবেন ।এসি পরিবহন,নন এসি,গ্রীনলাইন,সােহাগ,হানিফ,শ্যামলী সহ সকল বাসের সেবা পাবেন।এছাড়া আপনি যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে কমলাপুর থেকে অনেক ট্রেন পাবেন সিলেট যাওয়ার জন্য। আপনি যদি বিমানে যেতে চান ঢাকা থেকে সিলেট সহজেই যেতে পারবেন।
আপনি সিলেটে এসে খাদিম চা বাগান এবং খাদিম নগর জাতীয় বাগান পথে খুব সহজেই যেতে পারবেন।এছাড়া আপনি সি এন জি বা অটোরিক্সা বা কোন গাড়ি চলে সিরিঞ্জি ব্রিজ চলে আসতে পারেন।এখান থেকে নৌকা ভাড়া করে এই চমৎকার রাতারগুল বা বাংলার আমাজান বন ভ্রমন করতে পারেন।


1 0
100 %
Happy
0 %
Sad
0 %
Excited
0 %
Angry
0 %
Surprise

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *